কুমিল্লায় সহকর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভাইরাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের গাজীপুরে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের খবর পাওয়া গেছে। জমি, প্লট ও একাধিক ফ্ল্যাট থাকার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, তার আয়কর নথিতে ওই সম্পদের বিবরণ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের একজন প্রকৌশলী তার মাসিক বেতন-ভাতা দিয়ে গাজীপুর মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় তিনটি ফ্ল্যাট, উত্তর ছায়াবীথি এবং তেলীপাড়ায় একাধিক প্লটসহ নামে-বেনামে এত সম্পদের মালিক হলেন কীভাবে?
সম্পদের বিবরণ
আবুল খায়ের প্রথমে জয়দেবপুর মৌজার লালমাটি এলাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকার কথা স্বীকার করলেও উত্তর ও দক্ষিণ ছায়াবীথিতে কোনো ফ্ল্যাট নেই বলে অস্বীকার করেন। পরে সচিত্র প্রমাণসহ জানতে চাইলে তিনি লালমাটির প্লট ও উত্তর ছায়াবীথির এনএন টাওয়ারে একটি প্লট বুকিং দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতি মাসে এর জন্য তিনি তার বেতন থেকে ৫০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করেন। তবে একই কোম্পানির দক্ষিণ ছায়াবীথির অপর ভবনে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পরিবার গাজীপুরে
স্থানীয়রা জানান, আবুল খায়ের দুই বছর আগে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন কার্যালয়ে সহকারী স্বাস্থ্য প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে কুমিল্লায় বদলি হয়ে গেলেও তার পরিবার গাজীপুরে রেখে যান। তিনি মাঝে মাঝে গাজীপুরে আসেন এবং চাকরির উপার্জনেই পরিবার চলে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তোলেন কুমিল্লা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী তাজমিনা আক্তার। গত ২৪ মে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন তারই ঊর্ধ্বতন নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের। তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন আবুল খায়ের। বিষয়টি দ্রুত নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়।
তাজমিনা আক্তার বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। অফিসের কাজের অজুহাতে ছুটির দিনেও তাকে অফিসে ডাকতেন এবং বিভিন্নভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। এসব প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। পাশাপাশি অফিসে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মের সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ করেন তাজমিনা।
তার দাবি, কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বিভিন্ন প্রকল্পের লটারি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অফিস ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থতলা ব্যক্তিগত বাসা হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
তদন্ত চলছে
এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, এসব অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। তদন্তাধীন বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।



