স্কুলশিক্ষক বাবার কাছ থেকে প্রতারক চক্রের দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
স্কুলশিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারক চক্রের দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তফা আরিফুজ্জামান আরিফের বাবা, স্কুলশিক্ষক মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস, প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রতারক চক্র পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁর ছেলে মাদকসহ ধরা পড়েছে এবং তাঁকে আদালতে চালান দেওয়া হবে বলে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে। ছেলের ভয়ে তিনি মুঠোফোনের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

রুহুল কুদ্দুস সাতক্ষীরার ঘোনা ইউনিয়ন বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি জানান, ২১ মে দুপুরে একটি অজানা নম্বর থেকে তাঁর মুঠোফোনে কল আসে। কলার নিজেকে ডিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনার ছেলে মাদকসহ ধরা পড়েছে। আমাদের হেফাজতে আছে।’ পরে তাঁকে ছেলের মতো কণ্ঠ শুনিয়ে বলা হয়, ‘আমাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করো।’ এরপর প্রতারকেরা এক লাখ টাকা দাবি করে। রুহুল কুদ্দুস প্রথমে এক লাখ টাকা পাঠান। পরে তাঁরা আরও এক লাখ টাকা দাবি করলে তিনি আরও ৫০ হাজার টাকা পাঠান। মোট দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে জানান যে আরিফুজ্জামান ঠিকঠাক আছে। তখন তিনি বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন।

থানায় জিডি

প্রতারণার শিকার হওয়ার পর রুহুল কুদ্দুস সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি যে নম্বর থেকে কল এসেছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং টাকা পাঠানো হয়েছে—সেসব তথ্য উল্লেখ করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈকত পাড়ে জানান, জিডিতে কিছু তথ্যের ঘাটতি আছে, যেমন টাকা কখন এবং কোন জায়গা থেকে পাঠানো হয়েছে—এগুলো উল্লেখ নেই। এই তথ্য পেলেই তারা কাজ শুরু করবেন। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের প্রতারক চক্রকে ধরা কঠিন, কারণ তারা নকল সিম ব্যবহার করে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এমনভাবে চালায় যে সিম বন্ধ থাকলেও অ্যাপ চলে। টাকা একবার প্রতারকের হাতে চলে গেলে উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিকার ও সতর্কতা

এসআই সৈকত পাড়ে জানান, এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা এখন প্রায়ই ঘটছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অপরিচিত কেউ ফোন করে যদি টাকা দাবি করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া, প্রতারকেরা এনআইডি ব্যবহার করে সিম রেজিস্ট্রেশন করলেও অনেক সময় দেখা যায় এনআইডির মালিক মারা গেছেন অথবা তাঁর বয়স ৭০-৮০ বছর, তিনি জানেন না যে তাঁর নামে সিম চালু করে প্রতারণা চলছে। তাই সিম রেজিস্ট্রেশনের সময় সতর্ক থাকা জরুরি।