সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই: গুলশানে সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু হয়। এ কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকারের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আজ প্রথম দিনে পাঁচটি বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। এরপর শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।
রিজভী আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও মনোনয়ন বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মনোনয়ন ফরম ও নির্বাচনী তফসিল
জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা এবং ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। এরপর ২৬ এপ্রিল আপিল গ্রহণ করা হবে এবং তা নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসন বণ্টন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১টি আসন নির্ধারিত রয়েছে। বিএনপির এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সাক্ষাৎকার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএনপি তাদের নারী নেত্রীদের মনোনয়ন দেওয়ার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে চাইছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনগুলোর জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের এ উদ্যোগ দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



