নোয়াখালীর সেনবাগে ফসলি জমির মাটি বিক্রি নিয়ে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ফসলি জমির মাটি বিক্রি নিয়ে বিএনপির স্থানীয় কর্মীদের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের উত্তর শাহাপুর গ্রামের পূবালী ব্রিকস এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়। সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে এ ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাটি বিক্রির পটভূমি ও সংঘর্ষের কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কাবিলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ এলাকার কিছু ফসলি জমির মাটি মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করেন। তবে দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি স্থানীয় মহিদিপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী মো. ফকিরের কাছে ওই মাটি বিক্রি করে দেন। গতকাল ফকিরের লোকজন মাটি কাটতে গেলে একই এলাকার বিএনপির কর্মী মো. মুজিব, মো. আশরাফুল ও মো. তারেকসহ কয়েকজন বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় মো. ফকিরের পক্ষের লোকজন একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেন, যা ঘটনাকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
বিবাদমান পক্ষগুলোর বক্তব্য
কাবিলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁকে মাটি কাটতে বাধা দেন, তাই তিনি মাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ফকির লোকজন নিয়ে মাটি কাটতে গেলে একই দলের কিছু কর্মী-সমর্থক বাধা দেন, যার ফলে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রামে ছিলেন।
অন্যদিকে, বিএনপি কর্মী মো. মুজিব দাবি করেন, তিনি মাটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত নন। তিনি বলেন, ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা বেআইনি হওয়ায় এলাকাবাসী বাধা দিয়েছেন এবং এ সময় এলাকাবাসীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বিএনপি কর্মী মো. ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, এবং কাবিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার জানান, ফসলি জমির মাটি কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে এবং এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ফসলি জমির মাটি বিক্রি পরিবেশগত ও কৃষি ক্ষতির কারণ হতে পারে, যা এলাকার স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।



