বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় স্থান পেলেন না অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক
বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় নেই অভিনেত্রী চমক

বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় স্থান পেলেন না অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। তবে বিএনপি কর্তৃক ঘোষিত ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। চমক সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য দলের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিলেন এবং সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি।

দেশ ও নারী উন্নয়নে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা

মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় রুকাইয়া জাহান চমক তার মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, 'আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই, বিশেষ করে নারীদের জন্য। এ জন্য একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন ছিল। আমার ধারণা ছিল, বিএনপির সাথে যুক্ত হলে আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে। আলোচনায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলাম, তাই শতভাগ আশাবাদী ছিলাম। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত আমি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করব।' তার এই বক্তব্য রাজনীতিতে নতুন মুখের অংশগ্রহণ ও নারী ক্ষমতায়নের প্রতিফলন ঘটায়।

অভিনয় থেকে রাজনীতিতে পদার্পণ

বরিশালে জন্মগ্রহণকারী রুকাইয়া জাহান চমক মূলত ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার মাধ্যমে তিনি জনসমক্ষে আসেন। ২০২০ সালে বিনোদন জগতে প্রবেশ করে তিনি মহানগর, অসমাপ্ত এবং হায়দার এর মতো জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেন, যা তাকে দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সম্পৃক্ততা গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখার মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। এরপর তিনি পুনরায় অভিনয় ও কন্টেন্ট তৈরিতে মনোনিবেশ করেন। সম্প্রতি তিনি বিএনপিতে যোগদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সংরক্ষিত নারী আসনে তার আগ্রহ সত্ত্বেও, দলীয় পর্যায়ে মনোনয়ন না পাওয়ায় তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব

বিএনপির মনোনয়ন তালিকা ঘোষণার পর এই সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দলটি অভ্যন্তরীণ কৌশলগত বিবেচনায় নতুন প্রার্থীদের চেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। চমকের মতো সেলিব্রিটিদের রাজনীতিতে আসা বাংলাদেশে একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা, যা যুব ও নারী ভোটারদের আকর্ষণ করতে পারে।

তবে, এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও চমক তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী রয়েছেন। তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে অন্য কোনো ভূমিকা বা আসনে মনোনয়নের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রক্রিয়া, নারী প্রতিনিধিত্ব এবং সেলিব্রিটি অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরছে।