সিলেটে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রীর ব্যাখ্যা
সোমবার সকালে সিলেটের অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে তিনি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য পরিমিত পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে, যাতে মূল্যস্ফীতির সৃষ্টি না হয়।
জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য ব্যবস্থাপনা একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় চলে। তিনি বলেন, আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য বাড়লে খুচরা পর্যায়েও মূল্য বাড়বে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেও এই একই ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের আগে গ্যালনপ্রতি ২ ডলার ৮০ থেকে ৯০ সেন্ট ছিল, যা বর্তমানে ৫ ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ১০০ থেকে ১১৫ টাকা করা হয়েছে, যা একটি পরিমিত বৃদ্ধি বলে তিনি দাবি করেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকদের সহায়তা
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক পর্যায়ে সেচপাম্প চালানোর ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা যাতে কৃষকদের ওপর না পড়ে, সরকার সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব যেন বিভিন্ন সেক্টরে না পড়ে, সে জন্য সরকার সচেতন রয়েছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, খাদ্যদ্রব্য পেট্রোলিয়াম দিয়ে তৈরি হয় না, কেবল তা পরিবহনের জন্য জ্বালানি লাগে। পণ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ হলো জ্বালানি খরচ, তাই জ্বালানির দাম ১৫ শতাংশ বাড়লে মোট উৎপাদন খরচ খুব বেশি বাড়ে না।
হাম-রুবেলা টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন
টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, সরকার জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে অচিরেই দেশব্যাপী হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি সিলেটে শিগগিরই ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করার ঘোষণা দেন, যা সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে অসন্তোষ দূর করতে সহায়ক হবে। মন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভিন্ন সামাজিক সূচকে পিছিয়ে রয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ
- স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম।
- বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা সুফি মো. খালিদ বিন লুৎফুর, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং ইউনিসেফের সিলেট ফিল্ড অফিসের প্রধান মির্জা ফজলে এলাহী।
- সভাপতিত্ব করেন সহকারী পরিচালক নূরে আলম শামীম।
- অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সচিব মো. আশিক নূর, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত, অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদা গুলশান সিদ্দিকা প্রমুখ।
শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন ও আশ্বাস
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সিলেটের নির্মাণকাজ শেষ হওয়া ২৫০ শয্যার শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে এই হাসপাতালের আটতলা ভবনটি প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও কোন দপ্তর এটি পরিচালনা করবে, তা ঠিক না হওয়ায় পড়ে রয়েছে।



