ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বিএনপির দুই নেতার মধ্যে কমিটির অনুমোদনকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের দিকে বিএনপির আরেক নেতা একপর্যায়ে জুতা হাতে তেড়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শাহারপাড় মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ঘটনার বিবরণ
নাজমুল করিম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। নাজমুলের দিকে জুতা হাতে তেড়ে যাওয়া বিএনপি নেতার নাম মাহাবুবুর রহমান। তিনি জেলা যুবদলের সদস্য এবং সংসদ সদস্যের অনুমোদিত কমিটিতে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী। উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় নেতা–কর্মী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হোসেন আহাম্মদ প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। এরপর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে গত বছরের ১ জুন ইউনিয়ন সভাপতির শূন্য পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা বিএনপি।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মান্নান দলীয় এক চিঠিতে স্বাক্ষর করে মাহাবুবুর রহমানকে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে সুপারিশ করেন। দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও কমিটির অনুমোদন দেননি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম। বিষয়টি নিয়ে নাজমুলের সঙ্গে মাহাবুবুরের বিরোধ ও মনোমালিন্য দেখা দেয়।
ঘটনার দিনের ঘটনা
স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা জানান, রোববার বিকেল চারটার দিকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় উপজেলার শাহারপাড় মোড়ে মাহাবুবুরের সঙ্গে নাজমুলের কথা-কাটাকাটি হয়। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহাবুবুরকে ধাক্কা দেন নাজমুল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাহাবুবুর পায়ের জুতা খুলে হাতে নিয়ে নাজমুলের দিকে তেড়ে যান। পরে উপস্থিত স্থানীয় নেতা–কর্মীরা এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং নেতা–কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মাহাবুবুরের বক্তব্য
জেলা যুবদলের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মাহাবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কমিটির অনুমোদন দিতে আমার কাছে তিনি (উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক) টাকা চেয়েছিলেন। আমি টাকা দিইনি, তাই তিনি কমিটির অনুমোদন দেননি। কমিটি গঠন নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমার বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। ঘটনাস্থল খালের পাড়ের ঢালু জায়গা। সেখানে তিনি ধাক্কা দিলে আমি পড়ে গিয়েছিলাম। এতে জুতা খুলে গিয়েছিল। আমি জুতা পরছিলাম। তা ছাড়া তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে আমি তাঁর দিকে জুতা হাতে তেড়ে যাইনি।’
নাজমুলের পাল্টা বক্তব্য
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি একটি দাওয়াত খেয়ে ফিরছিলাম। সে সময় মাহাবুবুর এগিয়ে দিয়ে আসার কথা বলে প্রথমে আমাকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় তোলে। অটোরিকশায় তোলার পরই জোরপূর্বক আমাকে কমিটিতে স্বাক্ষর করতে বলে। আমি স্বাক্ষর করিনি এবং অটোরিকশা থেকে নেমে যাই। আমি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার বাইরে কিছুই করব না।’ এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল করিম বলেন, ‘মাহাবুবুর মিথ্যাচার করেছে। যা বলেছে, সবই মিথ্যা। বিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কি হয়েছে কিংবা জুতা হাতে তেড়ে এসেছে—এমন কিছু আমি বলছি না। আমি একা ছিলাম এবং তারা তিনজন ছিল। পরে ফোন করে লোকজন এনেছি।’



