দেশ ও জাতির প্রতিটি গভীর সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নির্ভয়ে ত্রাণকর্তা হিসেবে বারবার অবতীর্ণ হয়েছেন এবং বীরোচিত পদক্ষেপ নিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
শহীদ জিয়ার অবদান প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন একজন ভিশনারী, সকল ক্ষেত্রে সার্থক ও কীর্তিমান রাষ্ট্রনায়ক। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সময়ের প্রয়োজনে তিনি অসীম সাহসিকতা, দেশপ্রেম, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা নিয়ে আলোর দ্যুতিময় হয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার। বাকশালী শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠাতা। সর্বকালের জনপ্রিয়, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রপতি। চরম বিরোধীরাও শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে পারেনি। স্বল্প জীবনে শহীদ জিয়ার অর্জনের ভান্ডার বিশাল।
আলোচনা সভার আয়োজন
রোববার (৩১ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীতে দাউদকান্দি উপজেলা সদরে শহীদ রিফাত পার্ক প্রাঙ্গণে পৌর বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. খন্দকার মারুফ।
তিনি আরও বলেন, স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও সততায় আজও প্রাসঙ্গিক জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। তার গতিশীল নেতৃত্বে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হয়েছে। শহীদ জিয়া জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি কালজয়ী রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। এই দর্শন দিয়ে তিনি ‘বিএনপি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছেন।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভূমিকা
তিনি বলেন, তার সহধর্মিনী প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সততা, অসীম সাহস ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বৈরশাসক এরশাদ ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করে হঠিয়ে ১৯৯১, ১৯৯৬ (স্বল্প মেয়াদে) ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং তিন বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দেশে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, সর্বক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন, টেকসই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ১৬ বছর নির্বাসিত থেকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ২০২৬-এর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার জুলুম-নিপীড়নের অন্যতম শিকার মজলুম নন্দিত নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে তারেক রহমান উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন পূরণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী গত ১০০ দিনে রাষ্ট্রের প্রচুর সংখ্যক জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় মানুষের মনে আশার আলো জেগেছে। সব মহলে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার। এ ছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হাশেম, দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একেএম শামসুল হক, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম এ লতিফ ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব জসিমউদ্দিন আহমেদ, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরী, যুবদল নেতা মামুন হোসেন ভুইয়া, বিএনপি নেতা আরিফ মাহামুদ, পৌর যুবদলের আহবায়ক শরীফ চৌধুরী, দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনন্দ প্রমুখ।
এ সময় দোয়া ও মাহফিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।



