চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থল শনিবার (৩০ মে) পরিণত হয় হাজারো মানুষের মিলনমেলায়। তার ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকেই চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কসংলগ্ন সমাধিস্থল এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঢল নামে। দিনভর মিছিল, স্লোগান, ফুলেল শ্রদ্ধা এবং স্মৃতিচারণে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
উপস্থিতির রেকর্ড
নেতাকর্মীদের মতে, অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় এবার মৃত্যুবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সকাল থেকেই চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা এবং ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শত শত গাড়িবহর ও মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাধিস্থলে আসতে থাকেন। কালো ব্যাজ ধারণ, ব্যানার-ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে তারা শহীদ রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা ও দোয়া
সমাধিস্থলে আসা বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। অনেককে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতেও দেখা যায়।
মন্ত্রী ও এমপিদের শ্রদ্ধা
৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ জিয়ার প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থেকে তাদের সুখ দুঃখের অংশীদার হওয়ার মধ্য দিয়েই শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত একাধিক সংসদ সদস্য পৃথকভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে ছিলেন- চট্টগ্রাম-৫ আসনের ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল এমপি, চট্টগ্রাম-৬ আসনের আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম-৭ আসনের হুম্মাম কাদের চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এরশাদ উল্লাহ এমপি, চট্টগ্রাম-৯ আসনের আবু সুফিয়ান এমপি ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের মো. জসিম উদ্দিন এমপি। প্রত্যেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতির প্রথম সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন। এ সময় নেতারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দূরদর্শিতা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অংশগ্রহণ
শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। মহানগর বিএনপি, উত্তর জেলা বিএনপি, দক্ষিণ জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, তাঁতী দল, জাসাস, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
দিনভর সমাধিস্থল এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মৃত্যুর পর প্রথমে তাকে রাঙ্গুনিয়ার এই স্থানে দাফন করা হয়। পরে তার লাশ ঢাকায় নিয়ে বর্তমান সমাধিস্থলে পুনঃসমাহিত করা হলেও রাঙ্গুনিয়ার এই স্থানটি ‘প্রথম সমাধি’ হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে।



