কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো স্থান হবে না। এদের ছয় মাসের সময় দেওয়া হলো, তারা যেন পেশা পরিবর্তন করে। ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশি, তাই সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘর থেকে বের হতে হবে। আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান
আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এই ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
উন্নয়ন বরাদ্দ প্রসঙ্গে বক্তব্য
নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের বিএনপি দাবি করছে, এই এলাকার সব উন্নয়ন তাদের হাত ধরেই হবে। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকাকালীন চৌদ্দগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলাম। নির্বাচন শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আরও ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিএনপির সমালোচনা
ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্ভাগ্যজনকভাবে দিন দিন অবনতি ঘটছে। শিশুহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো অপ্রত্যাশিত। এর প্রধান কারণ, সরকারি দলের লোকেরাই এসবের সঙ্গে জড়িত। সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনেক সময় কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাইলেও পারেন না।’
বিএনপি সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে
বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে নতুন সংবিধান সংস্কার, পার্লামেন্টারি সিস্টেমের উন্নয়ন এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আশায়। কিন্তু বিগত কয়েক মাসে বিএনপির কাছ থেকে আমরা সে ধরনের ভূমিকা দেখছি না, যা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। আমরা বিএনপিকে এখনই ব্যর্থ সরকার বলতে চাই না। তবে যদি এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, তবে মানুষের কাছে তাদের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হবে। আমি সরকারপ্রধানকে আহ্বান জানাব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির মুহাম্মদ শাহজাহান ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান।



