দুই বছর আগে জুলাই বিপ্লব আমাদের জাতিকে নাড়া দিয়েছিল এবং একটি হিসাবনিকাশের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছিল। এটি ছিল অসাধারণ সাহসের সময়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মূলত আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা—তরুণ নারী-পুরুষ এবং এমনকি আরও কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা, যারা দুর্নীতি, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্যকে বেঁচে থাকার মূল্য হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল।
বিপ্লবের লক্ষ্য ও অর্জন
যদিও এই অভ্যুত্থান শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পতন এবং শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে, তবে লক্ষ্য কখনোই শুধু সরকার পরিবর্তন ছিল না; বরং এটি ছিল একটি নতুন সামাজিক চুক্তির দাবি। যখন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন সবচেয়ে গভীরভাবে প্রোথিত ব্যবস্থাকেও চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব। জবাবদিহিতার অভাব, আইনের শাসনের দুর্বলতা এবং স্বার্থান্বেষী মহলের দ্বারা জনসেবা দখল করাই ছিল প্রশ্ন ও প্রতিরোধের মূল বিষয়।
বর্তমানে বিএনপি প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনা করছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: জুলাই বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি কি পূরণ হয়েছে? অগ্রগতি হয়েছে, তবে তা অসম। জনসেবা প্রদানে দুর্নীতি এখনও ব্যাপক। অর্থনৈতিক সংস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু মধ্য ও নিম্ন শ্রেণী এখনও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বোঝা বহন করছে। সংবাদমাধ্যম এখনও চাপ অনুভব করছে, সাংবাদিকরা তাদের কাজ করার জন্য মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন।
ভবিষ্যতের পথ
বিএনপি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে পূর্ববর্তী শাসনের ভুলগুলি পুনরাবৃত্তি না হয়। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নিতে এবং তার সেরা সংস্করণ হতে হলে প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের কোনো বিকল্প নেই। এই জাতিকে অবশ্যই এমন একটি দেশে পরিণত হতে হবে যা এই মৌলিক নীতিগুলিতে বিশ্বাস করে এবং সক্রিয়ভাবে সেগুলিকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করে।
জুলাই বিপ্লব ছিল আমাদের জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, তবে এটি অবশ্যই কোথাও নিয়ে যেতে হবে। দুই বছর পরে, আমাদের সবাইকে অসম্পূর্ণ কাজের প্রতি পুনরায় অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে—একটি বাংলাদেশ গড়ার কাজ যা তার সীমানার মধ্যে সকলের সেবা করে।



