বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের জামিন মঞ্জুর, আদালতে আত্মসমর্পণের পর মুক্তি
আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের জামিন মঞ্জুর

বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতার জামিন মঞ্জুর: আদালতে আত্মসমর্পণের পর মুক্তি

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন। সোমবার দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার পটভূমি ও জামিনের শর্ত

আসামিপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম খান কায়সার জানান, সাত বছর আগের একটি মারামারির মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের শর্তে আদালত তালুকদার মো. ইউনুসের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি এত দিন সময়মতো আদালতে হাজির হতে পারেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আত্মগোপনে যান। ওই সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়। আজ আদালতে হাজির হয়ে মারামারির ঘটনায় হওয়া একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিস্তারিত তথ্য

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৫ মে নগরের অনামী লেনে হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালে বিএনপি কর্মী সরোয়ার হোসেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগর সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, মহানগর সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসসহ ২১০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় তালুকদার ইউনুস তিন নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস ২০০৮ সালে বরিশাল-১ এবং ২০১৪ সালে বরিশাল-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে ভারতে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে দেশে ফেরার পর যশোরের বাঘারপাড়া এলাকা থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে কোর্ট মার্শালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনও নির্ধারিত হয়েছিল। তবে ৭ ডিসেম্বর এলাকা শত্রুমুক্ত হলে কারাগার ভেঙে বন্দি মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্ত করা হয়।

অন্যান্য নেতাদের জামিনের প্রসঙ্গ

এর আগে গ্রেফতারের প্রায় ৯ মাস পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি পান। জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন।

এই ঘটনাটি বরিশাল অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যেখানে আদালতের সিদ্ধান্ত নেতাদের আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকে নির্দেশ করছে।