নোয়াখালীতে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয় দখল, পুলিশ পাঁচজন আটক
নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় দখল, পাঁচজন আটক

নোয়াখালীতে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয় দখলের ঘটনা

নোয়াখালীর মাইজদী উপজেলায় একটি রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রায় ১৭ মাস ধরে তালাবদ্ধ থাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তালা ভেঙে ঢুকে পড়েন। আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণ

প্রায় ৩০-৩৫ জন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী নোয়াখালী শহরের টাউন হল মোড়ে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা 'জয় বাংলা' এবং 'জয় বঙ্গবন্ধু' সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তারা 'নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়' লেখা একটি ব্যানার হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন, এবং তাদের সঙ্গে একজন বয়স্ক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। ব্যানারটি টাঙিয়ে দেওয়ার পর তারা সবাই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

পুলিশের তৎপরতা

কার্যালয় খোলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং একটি পুলিশ গাড়িতে আটক পাঁচজনকে রাখা হয়েছে। আশপাশের দোকানিদের সঙ্গে উৎসুক জনতাও ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভোরে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙেছেন, এবং এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত বাকি ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পটভূমি

এই কার্যালয়টি ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট একটি ঘটনার পর থেকে বন্ধ ছিল। সে সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার জেরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়, এবং কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে কার্যালয়টির প্রধান ফটকে তালা ঝোলানো ছিল, যা আজকের ঘটনার আগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া

তালা ভেঙে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢোকা এবং স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘটনাটির ব্যাপকতা বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন, এবং পুলিশের তৎপরতা প্রশংসা পেয়েছে।