জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে একচুলও সরিনি: ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি
জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে একচুলও সরিনি: ডিআইজি

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দীর্ঘ ১৮ বছরের চাকরি জীবনে তিনি পদবঞ্চনা, বৈষম্য, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি বলে দাবি করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য

সোমবার (১১ মে) পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, প্রায় ২৯ বছরের চাকরি জীবনে এই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত। জীবনে দীর্ঘ বঞ্চনা, কষ্ট, অপমান আর অপেক্ষার ইতিহাসের বিপরীতে আজকের মুহূর্তটি তার কাছে সুন্দরতম প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন।

চাকরি থেকে অব্যাহতি ও পুনর্বহাল

তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে চাকরি জীবনের শুরুতে মাত্র ১৭ মাসের মাথায় ১৯৯৮ সালে তাকে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার অব্যাহতি দেয়। এরপর সাড়ে চার বছর তিনি অপমান ও সীমাহীন মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়িয়েছেন। সমাজ, আত্মীয়-স্বজন এমনকি নিজের পরিবারের কাছেও নিজেকে অসহায় মনে হতো। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি চাকরি ফিরে পান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শৈশবের স্মৃতি ও জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্য

রেজাউল করিম মল্লিক তার শৈশব স্মৃতির কথা তুলে ধরে বলেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাদারীপুরের শিবচরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে ধানের শীষের মালা পরিয়ে বরণ করার সুযোগ হয়েছিল। সেই মুহূর্তকে তিনি জীবনের অন্যতম সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে আরও কয়েকবার জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়। সর্বশেষ ১৯৮১ সালের ২৫ জানুয়ারি আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জুনিয়র ক্যাডেট কোর ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে করমর্দন করে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা

ডিআইজি রেজাউল করিম বলেন, সেদিনের অনুভূতি ছিল এমন, যেন তিনি বিশ্ব জয় করেছেন। কিন্তু কয়েক মাস পরই ৩০ মে সেই বিষাদময় সংবাদ শুনতে হয়। নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেননি, কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, জীবনের কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার একটি আশ্বাস কিংবা স্নেহমাখা বাক্য তাকে নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি দিয়েছে। তাকে তিনি আশ্রয় ও সাহসের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সম্মান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন আশার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে তিনি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। বক্তব্যের শেষদিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজ আপনার সামনে এসে মনের গভীরে জমে থাকা স্মৃতিগুলো ব্যক্ত করেছি। আমার ভুল-ত্রুটি মার্জনা করার জন্য বিনীতভাবে আবেদন করছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।