টাঙ্গাইল জেলার মানচিত্রকার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার সাবেক সহসভাপতি ও জেলা বাস–মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির টেলিফোনে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই রেকর্ড নিয়ে জেলার সর্বত্র চলছে আলোচনা।
কথোপকথনের মূল বক্তব্য
ওই কথোপকথনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার প্রয়াত সভাপতি ফজলুর রহমান খান (ফারুক) জেলার রাজনীতিতে এক সময়ের প্রভাবশালী সিদ্দিকী পরিবার ও খান পরিবারের মধ্যে বিরোধ লাগিয়ে রাখতেন। আর এই দুই পরিবারের বিরোধের সুযোগ নিয়ে তিনি এককভাবে দল চালিয়েছেন।
ফজলুর রহমান খানের ভূমিকা
২০২৪ সালে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ফজলুর রহমান খান আত্মগোপনে যান। ওই বছর অক্টোবর মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জেলা পরিষদেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর ছেলে খান আহমেদ শুভ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
ওই কথোপকথনে গোলাম কিবরিয়া জানান, কীভাবে ফজলুর রহমান খান দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ লাগিয়ে রাখতেন, সে কথা তাঁর কাছে (কিবরিয়া) ফজলুর রহমান খান বর্ণনা দিয়েছিলেন। টেলিফোনে কথোপকথনে গোলাম কিবরিয়া ফজলুর রহমানের উদ্বৃতি দিয়ে সে কথাই জানিয়েছেন অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে। তবে টেলিফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি।
গোলাম কিবরিয়ার বক্তব্য
এ বিষয়ে আজ সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, তিনি জার্মানিতে আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ড তাঁর। তিনি বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁরা তাঁদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক পন্থা অবলম্বন করেছেন যা দলের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। ভবিষ্যতে যাঁরা জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন, তাঁরা ব্যক্তিস্বার্থে দলের মধ্যে বিভাজন না করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের স্যগঠন গড়ে তুলবেন—এই আশা করছি।’
অডিও রেকর্ডের বিবরণ
ওই রেকর্ডে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শোন ভাই, একটা কথা কই, আমরা যাই করি খান পরিবারের রাজনীতির মূল বিরোধিতা করছে ফারুক সাব। তোমারে ব্যাখ্যা দেই, তুমি বুঝতে পারবা। ফারুক সাব নিজে কইছে আমারে যে, “মনি দেখো আমি একটা মানুষ। থানাপাড়া থাকি। আমার কোন গুন্ডা বদমাইশ পোলাপান কিচ্ছু নাই; কিন্তু আমি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নাচাইছি।”’
এরপর গোলাম কিবরিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘কয় কি লোকটা (ফজলুর রহমান খান)। শোন, “লতিফ সিদ্দিকীকে আমি কোনো দিন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হবার দেই নাই। খান পরিবার-সিদ্দিকী পরিবারের মধ্যে বাজাইয়া রাখছি আমি ফারুক। কারণ, যদি খান পরিবার ও সিদ্দিকী পরিবার এক হইয়া যায়, আমার মতো ফারুক যেডি আছে, যাইয়া গাতায় (গর্ত) পরতো। হয় সিদ্দিকী পরিবার সিনিয়র হইতো, খান পরিবার তাগো জুনিয়র হইতো। অথবা খান পরিবার সিনিয়র হইতো মান্নান সাব, শামসুর রহমান খানরা সিনিয়র হইতো। কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী জুনিয়র হইতো। হেরা হেরাই সব হইতো। শামসুর রহমান খান সভাপতি হইলে লতিফ সিদ্দিকী বা কাদের সিদ্দিকী সাধারণ সম্পাদক হইতো। তাগো দেওন লাগতো। এ জন্য আমি ফারুক কোনো দিন তাগো এক হইতে দেই নাই। এটা অসম্ভব। আর আমার সাথে কাম করছে মুকুল ভাই (মির্জা তোফাজ্জল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি)। তারও কোনো এলাকা নাই, পোলাপান নাই। সেইও আওয়ামী লীগের নেতা আসিলো। আমরা খালি সকালে এক কানকথা লাগাইছি, বিকালে এক কথা লাগাইছি।’”



