বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্টবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ হয়েছে। জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে নানা বাহাস হচ্ছে। তা ভালো, কিন্তু এগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা
শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়া পরিষদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির অনেক অঙ্গ সহযোগী সংগঠন রয়েছে। আরেকটি সহযোগী সংগঠনের দরকার নেই। জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, তা চাই না। তিনি বলেন, আমাদের দরকার জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আমার চাপে জিয়া পরিষদ কয়েকটি বই করেছে। তারা গবেষণামূলক কাজ করুক, সেটি প্রত্যাশা। বাংলাদেশে নিয়ম হয়েছিল, তদবির ছাড়া কাজ হয় না। এটি ১৫ বছরে হয়েছে। অনেকে ভাইস চ্যান্সেলর হতে তদবির করেছেন, এটা দুঃখজনক। এটি সিস্টেমের দোষ। মূলত মেধা ও বুদ্ধিমত্তা ছাড়া সামনে এগোনো যায় না।
সরকারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
মন্ত্রী বলেন, সরকারের ভেতর যত ঢুকছি, তত আতঙ্কিত হচ্ছি। সরকারে আসার পর যেদিকে তাকাই শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখতে পাই। সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার
তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি জায়গায় আমরা ছিলাম। আমরা কিছু জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। স্বাক্ষরও করেছি। এখন অবলীলায় বলছে, সবটাই করতে হবে। উচ্চকক্ষে পিআরে আমরা একমত হইনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়েও আমরা একমত হইনি। সবকিছু সংসদের করতে হবে।
বিএনপি সংস্কারের জনক: ফখরুল
ফখরুল বলেন, অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন বিএনপি সংস্কার মানে না। অথচ বিএনপিই সংস্কারের জনক। জিয়াউর রহমান প্রথম সংস্কার এনেছিলেন। তারা মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছেন, জামায়াত এটা নিয়ে আন্দোলনও করছে। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা। আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনে কমিটির নাম চেয়েছেন। আশাকরি দ্রুত তারা নাম দেবে।
ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের যুক্ত করার আহ্বান
তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের যুক্ত করতে হবে। সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে হবে। না হয় এটি অতীতের মতো আগামীতেও ক্ষতি করবে।



