ভারত ভ্রমণ শেষে মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী নিয়ে ফিরলেন নারী!
ভারত ভ্রমণ শেষে মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী নিয়ে ফিরলেন নারী

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের বাসিন্দা লোরি ডেনম্যান ২০০৭ সালে তিন মাসের জন্য ভারত ভ্রমণে যান। মাংস এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিলেও অজান্তেই শুকরের ফিতাকৃমির ডিম সংক্রমিত খাবার খেয়ে ফেলেন। দেশে ফেরার তিন বছর পর ২০১০ সালে তিনি নিজের শরীর থেকে প্রায় এক মিটার লম্বা ফিতাকৃমি বের হতে দেখেন।

মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী শনাক্ত

২০১১ সালে তীব্র মাথাব্যথা ও মৃগীরোগের আক্রমণের পর সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় লোরির মস্তিষ্কে অন্তত ৩৮টি পরজীবী ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তিনি ‘নিউরোসিস্টাইসারকোসিস’ নামের বিরল মস্তিষ্ক সংক্রমণে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, কাঁচা বা আধসেদ্ধ শুকরের মাংস, দূষিত পানি বা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে এই রোগ হয়। যুক্তরাজ্যে এটি অত্যন্ত বিরল, সাধারণত আক্রান্ত দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের মধ্যেই দেখা যায়।

দীর্ঘ চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি

পরজীবী মারার ওষুধ ও স্টেরয়েড চিকিৎসায় লোরি সাময়িক সুস্থ হন। তিনি নিউজিল্যান্ড ভ্রমণ, সার্কাস ক্লাস ও হাফ-ম্যারাথনে অংশ নেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর স্ক্যানে দেখা যায় পরজীবীগুলোর চারপাশে ফোলাভাব তৈরি হয়েছে। স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার চেহারা বদলে যায় এবং তীব্র বিষণ্নতা, প্যারানয়া ও সাইকোসিস দেখা দেয়। তাকে টানা ছয় সপ্তাহ নিউরোসাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে কাটাতে হয়। তার বান্ধবী নিকোলা ব্রাউন বলেন, “হাসপাতালে লোরি পুরোপুরি একটি শিশুর মতো আচরণ করছিল। মেঝেতে হামাগুড়ি দেওয়া, পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা—ওকে চেনা যাচ্ছিল না।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসকের ব্যতিক্রমী অভিমত

সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. ব্রেন্ডন হিলি বলেন, “আমার পুরো কর্মজীবনে এটিই একমাত্র এবং সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ঘটনা। যুক্তরাজ্যের ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা এই কেস নিয়ে আলোচনা করেছেন। দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ তাদের পুরো জীবনেও এমন রোগী দেখার সুযোগ পাবেন না।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান অবস্থা ও সচেতনতা

চিকিৎসায় লোরির মস্তিষ্কের ৩৮টি পরজীবী মারা গেছে এবং সেগুলো ক্যালসিফাইড (নিষ্ক্রিয় পাথরের মতো) অবস্থায় রয়েছে। ২০১৭ সালের পর তার আর খিঁচুনি হয়নি, তবে জীবনের বাকি সময় মৃগীরোগের ওষুধ খেতে হবে। ৪২ বছর বয়সি লোরি বর্তমানে কার্ডিফে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, “আমি আবার বেঁচে আছি, সুস্থ আছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। জীবনকে এখন আমি প্রতি মুহূর্তে উপভোগ করি।” তিনি এই বিরল রোগ নিয়ে সচেতনতা ছড়াতে চান। সূত্র: বিবিসি।