শরীয়তপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছেন। শনিবার বিকেলে শরীয়তপুর পৌরসভার প্রেমতলা এলাকায় ঢাকা–শরীয়তপুর সড়কে তাঁরা মিছিল নিয়ে বের হন। মিছিলের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
মিছিলের বিবরণ
ভিডিওতে দেখা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার প্রেমতলা এলাকায় ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কে দলীয় ব্যানার ও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে হাঁটছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ব্যানারের সামনে আওয়ামী লীগের এক কর্মী জাতীয় পতাকা নিয়ে হাঁটছেন আর বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় শরীয়তপুর সদরের পালং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম শেখকে।
দাবি ও স্লোগান
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যখন মিছিল করছিলেন, তখন ওই ইউপি সদস্য তাঁর ফেসবুক পেজ থেকে মিছিলের লাইভ করেন। মিছিল থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান হয়। এ ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের নামে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
পূর্ববর্তী ঘটনা
দুই সপ্তাহ ধরে দুয়েক দিন পরপর শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে মিছিল বের করছেন আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। গত সোমবার সকালে জেলা শহরের প্রধান সড়কে মিছিল করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা–কর্মীরা। এর আগে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শরীয়তপুরের পাঁচটি স্থানে মিছিল করেন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা।
প্রতিক্রিয়া
মিছিলের বিষয়ে জানতে পালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম শেখের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলে তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পালং ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে নেমেছি। এখন থেকে নিয়মিত আমাদের কর্মসূচি চলবে। দলের নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা ঝটিকা মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন শরীয়তপুরে মিছিল করেছে, এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি এমন ঘটে থাকে, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’



