গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়ে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ছিল রাষ্ট্রের ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। আজ শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের প্রবর্তনায় ‘মুশতাক আহমেদ (ডিলিটেড বাই দ্য স্টেট)’ শিরোনামের একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তাঁরা।
প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা
অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি, সমাজজীবন—সবকিছুতেই মুশতাক আহমেদ উজ্জ্বল থাকবেন।’ তিনি আরও বলেন, মুশতাকের মৃত্যু তাঁকে ভীষণ নাড়া দিয়েছিল। যে কাস্টোডিয়াল টর্চারের (হেফাজতে নির্যাতন) শিকার তিনি হয়েছেন, সেটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।
বইয়ের সংকলক ও সম্পাদকের বক্তব্য
বইটির সংকলক ও সম্পাদক মনজুর হোসেন বলেন, ‘গত দেড় বছরে আমি মূলত কিছুই করিনি, শুধু এই বই নিয়েই কাজ করেছি।’ গয়রহ প্রকাশনী বইটি প্রকাশ করেছে।
আইনজীবীর মতামত
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বলেন, ‘মুশতাক আহমেদদের কখনো মুছে ফেলা যায় না।’ তিনি উল্লেখ করেন, শারীরিক অসুস্থতার পরও যে আদালত ছয়বার মুশতাক আহমেদের জামিন নাকচ করেছিলেন, সেই আদালত বদলাতে হবে। এই লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।
মুশতাকের ভাই ও বন্ধুর বক্তব্য
লেখক মুশতাক আহমেদের ভাই নাফিসুর রহমান বলেন, মুশতাক বরাবরই খুব সাহসী। তিনি কুমির নিয়ে কাজ করেছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করেছেন। সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল তাঁর প্রতিবাদী মন। দেশ অনেক সময় বিবেকি মনকে মেরে ফেলে। মন যাতে মরে না যায়, সে জন্য প্রতিবাদ প্রয়োজন। মুশতাক তাঁর প্রতিবাদী মনকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
মুশতাক আহমেদের বন্ধু আনিসদৌল্লা বলেন, মুশতাক আহমেদ ভ্রমণ, ফটোগ্রাফি—সবকিছুতেই খুব ভালো ছিলেন। সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাঁর স্বপ্ন ছিল।
মানবাধিকারকর্মীর বক্তব্য
গয়রহের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মানবাধিকারকর্মী ছন্দা মাহবুব বলেন, একটা ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে তাঁরা ছিলেন। সেই সংস্কৃতি তাঁদের নীরবতা পালন করতে বাধ্য করছে। এমনকি এখনো তাঁরা নীরবতা ভাঙতে ভয় পান। এ বই সেই নীরবতা ভেঙে সাহস দেখিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে এটি এক প্রয়োজনীয় দলিল হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য দিক
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রুছেলী খান। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেখক মুশতাক আহমেদের মা জেবুন্নেসা রাজ্জাক ও স্ত্রী মাসিয়া আক্তার।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদ গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক ও প্রতিবাদ দেখা দেয়।



