সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (অনূর্ধ্ব বা স্থায়ী বিশেষ আবাসন সুবিধা) হোল্ডারদের জন্য এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিজিটাল শ্রম প্ল্যাটফর্ম ‘কিওয়া’ এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। স্থানীয় দৈনিক ওকাজ পত্রিকার বরাতে জানা গেছে, এই বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটটি পাওয়ার জন্য প্রতি আবেদনকারীকে ১০০ সৌদি রিয়াল ফি প্রদান করতে হবে।
নতুন নীতিমালায় কী কী পরিবর্তন এসেছে?
সম্প্রতি কিওয়া প্ল্যাটফর্মটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, কর্মীদের পদত্যাগ এবং ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার প্রক্রিয়া সহজ ও সুনির্দিষ্ট করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।
সাবস্ক্রিপশন ফি নির্ধারণ
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কিওয়া প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি বা নিবন্ধন মাশুল এক রকম হবে না। প্রতিষ্ঠানের আকার এবং কোম্পানির ইউনিফাইড নম্বরের অধীনে নিবন্ধিত মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারণ করা হবে। এই সেবামূল্য পরিশোধের জন্য গ্রাহকরা ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট নম্বর এবং কিওয়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মতো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন।
তামহীর প্রশিক্ষণ চুক্তি
সৌদির জনপ্রিয় কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘তামহীর’-এর আওতাধীন চুক্তিগুলো এখন থেকে কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে নথিভুক্ত করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণ চুক্তিগুলো সৌদিকরণ বা নির্দিষ্ট হারে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের বাধ্যবাধকতার হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। একই সাথে এটি কর্মসংস্থান চুক্তি ডকুমেন্টেশনের বর্তমান কমপ্লায়েন্স বা শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
পদত্যাগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন
কর্মীদের পদত্যাগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করার সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধাটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যদি উক্ত সাত দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি সেই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করে থাকে কিংবা সিদ্ধান্ত স্থগিত না রাখে। পাশাপাশি, চাকরি ছাড়ার আগের নোটিশ পিরিয়ড বা সময়সীমা কেমন হবে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান চুক্তির শর্তাবলীর ওপর নির্ভর করবে এবং এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
ভিসা সংশোধন নিষেধ
ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কিওয়া স্পষ্ট করেছে যে একবার কোনো ভিসা ইস্যু হয়ে গেলে তার তথ্য আর সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাবে না। যদি ভিসায় কোনো ভুল তথ্য ইনপুট দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেই ভিসাটি বাতিল করতে হবে এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আরেকটি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ।



