বৈধ অস্ত্রের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবি
বৈধ অস্ত্রের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবি

বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও অতিরিক্ত ফি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ‘লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র মালিক কল্যাণ সমিতি বাংলাদেশ’। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।

তিন দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো:

  • বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর ও অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহার
  • যোগ্য নাগরিকদের জন্য লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নপ্রক্রিয়া সহজ করা
  • লাইসেন্সধারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও নিরাপত্তাবান্ধব ফি কাঠামো প্রণয়ন

সংগঠনটির নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পিস্তল ও রিভলবারের জন্য বার্ষিক ১ লাখ টাকা এবং শটগান ও রাইফেলের জন্য ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত সাধারণ লাইসেন্সধারীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও অযৌক্তিক। তাঁরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমিতির বক্তব্য

সমিতির আহ্বায়ক আরিফ উল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রস্তাবিত কর ও বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সমিতির মুখপাত্র মাহবুব এ খোদা বিভিন্ন দেশের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও নবায়ন ফি–সংক্রান্ত তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল কোনো দেশেই আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের নজির নেই। তাঁর ভাষ্য, দেশে বর্তমানে পিস্তল ও রিভলবারের লাইসেন্স নবায়ন ফি ২০ হাজার টাকা এবং শটগান ও রাইফেলের জন্য ১০ হাজার টাকা, যা তুলনামূলক অনেক বেশি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা ও ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব

মাহবুব এ খোদা আরও বলেন, প্রস্তাবিত কর কার্যকর হলে তা সাধারণ লাইসেন্সধারীদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর দাবি, বৈধ অস্ত্রধারীরা অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রতিরোধে পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেন। অতিরিক্ত করের কারণে মানুষ লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা দিতে বাধ্য হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

শুটিং খেলাধুলার প্রসঙ্গ টেনে সমিতির মুখপাত্র বলেন, অতিরিক্ত কর ও ফি আরোপের ফলে সম্ভাবনাময় শুটারদের একটি বড় অংশ নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এতে শুটিং ক্লাবের সদস্যসংখ্যা কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে যেতে পারে।