বাউফলে ইউপি উদ্যোক্তাকে মারধর ও ল্যাপটপ ছিনতাই, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
বাউফলে ইউপি উদ্যোক্তাকে মারধর, ল্যাপটপ ছিনতাইয়ের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক উদ্যোক্তাকে মারধর করে তাঁর ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরে কার্যালয়টির একটি কক্ষ ও মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

হামলার শিকার ও অভিযুক্ত ব্যক্তি

হামলার শিকার ব্যক্তির নাম সাইফুল হাসান (৪৫)। তিনি ওই ইউপির উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের শ্যালক। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আলী আজম চৌধুরী। তিনি দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

অভিযোগ

অভিযোগ আছে, গতকাল সোমবার কয়েকজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে জোর করে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর নেন আলী আজম চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকেরা। উভয় ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, দাসপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক কোষাধ্যক্ষ। অভিযোগ আছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন আলী আজম চৌধুরী। একই ইউপি উদ্যোক্তা সাইফুল হাসান ইউপি চেয়ারম্যানের শ্যালক হওয়ায় আজ দুপুরে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর কক্ষ ও ইউপি কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

সাইফুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনের মতো তিনি আজ নিজের কার্যালয়ে বসে নাগরিক সেবা দিচ্ছিলেন। বেলা একটার দিকে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫–২০ জনের একটি দল সেখানে ঢুকে তাঁকে কক্ষ ছাড়তে বলে। ইউএনওর অনুমতি ছাড়া বের হবেন না জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন এবং তাঁর ল্যাপটপ নিয়ে যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ

এদিকে দাসপাড়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪০–৪৫ জনের একটি দল কালাইয়া বাজারে তাঁর বাসায় গিয়ে একটি কাগজে সই করতে বলে। কাগজে কী লেখা আছে, জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলা হয়। তিনি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য কুলসুম বেগম। তিনি বলেন, ওই কাগজে স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আগের দিন চোখের অস্ত্রোপচার করিয়ে বিশ্রামে থাকায় ভীত হয়ে তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।

অভিযুক্তের বক্তব্য

তবে আলী আজম চৌধুরী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘যা কিছু ঘটেছে, তা ইউপি সদস্যরা করেছেন। কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।’

প্রশাসনের পদক্ষেপ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ওই উদ্যোক্তাকে মারধরের খবর তিনি পেয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সদস্যের দেওয়া অনাস্থা আবেদন পেয়েছেন। পাশাপাশি দুই ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।