রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনবিষয়ক পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। আজ বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরী নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি
২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাব্বি আলমসহ ৭৩ জনকে আসামি করে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর অনলাইন মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েকশ নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা তাঁর নেতা-কর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাত করার নির্দেশ দেন। এই বক্তব্য সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন মিটিংয়ে জয় বাংলা ব্রিগেড গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করে শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ওই মিটিংয়ে ৫৭৭ জন অংশ নেন।
মামলার অগ্রগতি
মামলার তদন্ত শেষে ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ১৪ আগস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ১৪ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ২৬১ জনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ১১ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আংশিক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে পাঠানোর আদেশ হয়। ওই আদেশে বলা হয়, দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩–এ বদলি করা হলো।
আজকের শুনানি
এরই ধারাবাহিকতায় আজ এই মামলায় কারাগারে থাকা ২৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতের হাজতখানা থেকে তাঁদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তাঁদের উপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়।
শুনানিতে আসামি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ কয়েকজনের পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অন্য কয়েকজন আসামির আইনজীবী অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই তারিখ ধার্য করেন।



