আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: সাবেক চিফ প্রসিকিউটরকে ডাকবে তদন্ত কমিটি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কয়েকজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে ডাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আজ বুধবার ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাবেক চিফ প্রসিকিউটরের কাছ থেকে নেওয়া হবে সার্বিক বক্তব্য
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ব্যাখ্যা করে বলেন, "তাজুল ইসলামের কাছ থেকে আমরা একটি সার্বিক ও বিস্তারিত বক্তব্য নেওয়ার পরিকল্পনা করছি, যেহেতু তিনি পূর্বে প্রসিকিউশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সম্ভবত বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তবে তিনি দেশে ফিরে এলে অবিলম্বে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করা হবে।
দুর্নীতির অভিযোগের পটভূমি ও ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির গঠন
এই তদন্ত প্রক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটেছে গত ১০ মার্চ, যখন প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার।
এছাড়াও, প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিমের কক্ষে একজন আসামির স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে গিয়েছিলেন এবং ওই আসামি পরবর্তীতে রাজসাক্ষী হিসেবে মামলায় খালাস পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন আরেকজন প্রসিকিউটর। এসব ঘটনাসহ কয়েকজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে ১০ মার্চই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তের অগ্রগতি ও প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার আগেই টেলিফোনে এই বিষয়ে কথা বলার কথা স্বীকার করেছেন। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তাঁকে আবারও ডেকেছে এবং বিস্তারিত শুনানি নেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "চলতি মাসের মধ্যেই কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে আমরা আশা করছি।" এই তদন্ত প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনা বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম ও প্রতিবেদনের ফলাফল সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



