চলতি বছরে সব স্কুলে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা: শিক্ষামন্ত্রী
চলতি বছরে সব স্কুলে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা

দেশের সব স্কুলে চলতি বছরের মধ্যেই মিড-ডে মিল (স্কুল ফিডিং) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে শিশুদের ক্রীড়ামুখী করে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস” ধারণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়ামোদী করে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

স্কুল ড্রেস ও মিড-ডে মিলের উদ্যোগ

তিনি বলেন, ‘সারা দেশের শিশুদের জন্য স্কুল ড্রেস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা যাতে পুষ্টিহীনতায় না ভোগে এবং মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে পারে, সে জন্য মিড-ডে মিল চালু করা হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই দেশের সব স্কুলে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তারা যেন খেলাধুলায় দক্ষ হয়ে উঠতে পারে, সে জন্য এ ধরনের টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

এর আগে গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিচাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম ২০০২ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় সীমিত পরিসরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হয়। পরে ২০১০ সালে সরকারের অর্থায়নে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় বড় পরিসরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর দেশের ১৬৫টি উপজেলায় নতুন আঙ্গিকে ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্যরা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের বিকাশ ও সম্ভাবনার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’ ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা ক্রীড়াখাতকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, ভবিষ্যতে পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। একইসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।’

টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়। এতে দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে এখন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন আটটি বালক ও আটটি বালিকা দল অংশ নিচ্ছে।