শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ১৭ জুন
ঢাকার একটি আদালত আগামী ১৭ জুন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামক সংগঠনের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও শুনানি পেছানোর আবেদন
বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৭ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিস্তারিত ও আসামিদের অবস্থা
মামলার নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জন আসামির মধ্যে ২৫৯ জন পলাতক রয়েছেন। অপরদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:
- যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম
- জয় বাংলা ব্রিগেডের সদস্য কবিরুল ইসলাম
- অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম
- ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন
- সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার ও পংকজ নাখ
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামে একটি গ্রুপের জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পলাতক শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আনা এবং তা নিশ্চিত করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ওই মিটিংয়ে দেশ-বিদেশ থেকে মোট ৫৭৭ জন অংশ নেন এবং শেখ হাসিনার সকল নির্দেশ পালন করার ব্যাপারে সকলে একমত প্রকাশ করেন।
ড. রাব্বি আলমের হোস্টিং-এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং হোস্ট, কো-হোস্ট ও অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীদের কথোপকথনে ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনায় 'জয় বাংলা ব্রিগেড' প্ল্যাটফর্মে দেশ-বিদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীগণ বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে দেবে না মর্মে আলোচনা হয়। সেইসঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মিটিংয়ে সরকারকে উৎখাত করার জন্য গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের সুস্পষ্ট উপাদান রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক।
তদন্ত প্রক্রিয়া ও চার্জশিট দাখিল
পরে সিআরপিসি'র ১৯৬ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি'র সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. এনামুল হক। এই মামলাটি রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আগামী ১৭ জুনের শুনানিতে কী ঘটে তা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।



