সালমান-আনিসুলের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানো: নতুন তারিখ ২৭ এপ্রিল
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৭ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন, যা আগে নির্ধারিত ছিল বর্তমান তারিখে।
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ও শুনানি প্রক্রিয়া
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই দিন পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, যিনি এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তার এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই ট্রাইব্যুনাল নতুন তারিখ ঘোষণা করে।
সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর কারণ
জানা গেছে, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল, কিন্তু অসুস্থতার কারণে সাক্ষী হাজির হতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়, যা ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করে। এদিকে, আজ সকালে এ মামলার দুই আসামিকেই কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল পুলিশের তত্ত্বাবধানে, কিন্তু সাক্ষ্য গ্রহণ না হওয়ায় তাদের পুনরায় কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়েছে।
মামলার পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা
২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল, এবং পরে গত ১২ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। যদিও আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, উসকানি, প্ররোচনাসহ পাঁচটি অভিযোগ এনে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন পক্ষ।
এই মামলাটি দেশের আইনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং সাক্ষ্যগ্রহণের এই বিলম্ব বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ এপ্রিল পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে, যা সকল পক্ষের জন্য কড়া নজরদারির বিষয় হয়ে উঠেছে।



