রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৭ জুন
ঢাকার একটি আদালত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ১৭ জুন নির্ধারণ করেছে। ঢাকা তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোইন উদ্দিন চৌধুরী আজকের শুনানিতে প্রতিরক্ষা পক্ষের আরও সময় চাওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
এই মামলার উৎপত্তি হয়েছে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একটি ভার্চুয়াল 'জয় বাংলা ব্রিগেড' সভার সাথে জড়িত অভিযোগ থেকে। অভিযোগ অনুসারে, আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন।
সভাটিতে বিশ্বব্যাপী ৫৭৭ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সভায় বিদ্রোহ উসকে দিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহাল করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
আসামিদের অবস্থান ও আইনি প্রক্রিয়া
২৮৬ জন আসামির মধ্যে ২৫৯ জন, যার মধ্যে শেখ হাসিনাও রয়েছেন, এখনও পলাতক রয়েছেন এবং অনুপস্থিতিতে তাদের বিচার চলছে। ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সংবাদপত্রে নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আখতার তুহিন, পঙ্কজ নাথ, সৈয়দা রুবিনা আক্তার; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রব্বি আলম; জয় বাংলা ব্রিগেড সদস্য কবিরুল ইসলাম; বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন; এবং বেশ কয়েকজন আইনজীবী ও শিক্ষাবিদ।
মামলা দায়ের ও তদন্তের বিবরণ
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি সিআইডির এএসপি মো. এনামুল হক ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট ২৮৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়, যা আদালত গ্রহণ করে এবং সকল আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তে প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবীরা আরও সময় পাওয়ায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।



