কুষ্টিয়ায় 'পীর' হত্যা মামলায় জামায়াত নেতাসহ ৪ নামজাদা ও ২০০ অজ্ঞাতের বিরুদ্ধে মামলা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় স্বঘোষিত 'পীর' আবদুর রহমান (যিনি শামিম রেজা ও জাহাঙ্গীর নামেও পরিচিত) হত্যা মামলায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতা খাজা আহমেদসহ চার নামজাদা ও ১৮০ থেকে ২০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে দৌলতপুর থানায় এই মামলা করেন নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরোপিত অভিযোগ ও অভিযুক্তদের পরিচয়
মামলায় অভিযুক্ত চার নামজাদা ব্যক্তি হলেন:
- খাজা আহমেদ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দৌলতপুর উপজেলা শাখার নেতা ও জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি।
- রাজিব মিস্ত্রী: স্থানীয় জামায়াত কর্মী।
- আসাদুজ্জামান আসাদ: খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি।
- সাফি: একজন মাদ্রাসা শিক্ষক।
এছাড়াও, ১৮০ থেকে ২০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে, হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেরামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন।
ঘটনার পটভূমি ও ব্লাসফেমি অভিযোগ
শনিবার বিকেলে দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নে 'শামিম বাবার দরবার শরীফ' নামে পরিচিত শামিম রেজার আস্তানায় তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সূত্রমতে, ২০২৩ সালের একটি পুরনো ভিডিও সামনে আসার পর ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননা) অভিযোগ ওঠে এবং তা হামলার সূত্রপাত ঘটায়। এই ঘটনায় তার তিন অনুসারী জুবায়ের, মোহন আলী ও জামিরুন নেসা আহত হন।
আসামিদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
অভিযুক্ত খাজা আহমেদ দাবি করেছেন যে, তিনি শামিম রেজার ভাইয়ের অনুরোধে তার মরদেহ নিতে গিয়েছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অনেক নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু মামলায় তাদের কাউকে আসামি করা হয়নি।
অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াত আমির বেলাল উদ্দিন দলের লোকদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তারা আইনীভাবে এর মোকাবিলা করবেন। এই মামলাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারির দাবি রাখে।



