রমনা বটমূল বোমা হামলা মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি, ২৫ বছর পরও চলছে শুনানি
রমনা বটমূল বোমা হামলা মামলার বিচার ২৫ বছরেও শেষ হয়নি

রমনা বটমূল বোমা হামলা: ২৫ বছর পরও বিচার প্রক্রিয়া চলমান

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণের দিন রাজধানীর রমনা বটমূলে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় ১০ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। এই নৃশংস ঘটনার পর রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

হত্যা মামলার রায় ও বিস্ফোরক মামলার বিলম্ব

দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলার রায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঘোষণা করা হয়। তবে বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলাটির বিচার এখনো শেষ হয়নি, যদিও ঘটনার পর ২৫ বছর পার হয়ে গেছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাই মাসে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে মামলাটি ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়।

পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মামলাটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-এ পাঠানো হয়। এই আদালতেই মামলাটি বর্তমানে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে। গত ৩১ মার্চ মামলাটির আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য শুনানির তারিখ ধার্য ছিল, কিন্তু আসামিদের আদালতে হাজির না করায় আদালত ৯ জুলাই শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের বক্তব্য ও বিচার প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ

মামলাটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের কৌঁসুলি মাহফুজ হাসান বলেন, 'রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এই মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁরা দেশের বিভিন্ন জেলায় কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁদের উপস্থিত না হওয়ার কারণে মামলার শুনানি এগোচ্ছে না। আশা করি, মামলাটির বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে এবং ভুক্তভোগীদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, 'হত্যা মামলায় রায় ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় ৪৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। এখন বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া যায় কি না—সেগুলো নিয়ে অতি তাড়াতাড়ি আমরা মামলাটি শেষ করব। আশা করছি, আগামী বৈশাখের আগেই একটি ফল পাওয়া যাবে।'

ঘটনার পটভূমি ও মামলার ইতিহাস

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত এই বোমা হামলার ঘটনায় ১০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় রমনা থানায় মামলা করে পুলিশ। পরে ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে সিআইডি আদালতে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এর একটি হত্যা মামলা, অপরটি বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা।

বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার ১৩ বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন রায় দেন। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড ও ছয় জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে। আদালতের পদক্ষেপ ও আসামিদের উপস্থিতির সমস্যা মামলার গতি কমিয়ে দিয়েছে, তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে শীঘ্রই একটি সমাধান আসবে।