সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের চিরবিদায়: শোক ও শ্রদ্ধায় সিক্ত শেষকৃত্য
শোক, ভালোবাসা ও ফুলেল শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়, যা আইনজীবী ও বিচারিক মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের ধারাবাহিকতা
আজ বেলা ১১টার দিকে ইন্দিরা রোডের বাসভবনসংলগ্ন খেলার মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়, যেখানে বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেন প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা অংশ নিয়ে শফিক আহমেদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজার পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বেলা ৩টার কিছু আগে শফিক আহমদের মরদেহ বহনকারী গাড়িটি আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়ে এবং সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়।
শেষকৃত্য ও জীবনাবসান
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ আজিমপুর কবরস্থানে নেওয়া হয় এবং সাড়ে ৫টার দিকে সেখানেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। গত রোববার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শফিক আহমেদ ইন্তেকাল করেন, যার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং টেকনোক্র্যাট (সংসদ সদস্য নন) মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শফিক আহমেদের মৃত্যু আইনজীবী সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যেখানে তাঁর অবদান ও নেতৃত্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানেরই প্রতিফলন।



