ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বার কাউন্সিল পরীক্ষা সহজীকরণের আহ্বান আইনমন্ত্রীর
বার কাউন্সিল পরীক্ষা সহজীকরণের আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বার কাউন্সিল পরীক্ষা সহজীকরণের আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া ও বিদেশে লেখাপড়া করা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান বার কাউন্সিল পরীক্ষার পদ্ধতি যেন কঠিন বাস্তবতা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে নজর দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরেন।

ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সমাপ্তি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অর্থায়নে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস আয়োজিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ছয়মাস মেয়াদী ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ও দ্বিতীয় পর্বের আগমন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বার কাউন্সিল পরীক্ষার বাংলা প্রশ্নপদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ

আসাদুজ্জামান বলেন, “আমাদের অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছেন কিংবা বিদেশে লেখাপড়া করে এসেছেন, তাদের জন্য বার কাউন্সিল পরীক্ষায় প্রশ্ন পদ্ধতি বাংলায় হওয়ায় প্রতিকূল বাস্তবতা পার হতে হয়। এই জায়গাটি যুগোপযোগী করা যায় কি না, তা বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতে পারে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থরা আইন পেশায় প্রবেশে বাধার সম্মুখীন না হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইন পেশার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির আহ্বান

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে, ‘যার নেই কোন গতি, সে করে ওকালতি’—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আইন পেশার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাশাপাশি আইন পেশার মান উন্নয়নে সবার এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি, যা দেশের আইন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির প্রশংসা ও প্রসার

আইনমন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এই কর্মসূচি আমাকে এতটাই উৎসাহিত করেছে যে আমি প্রধানমন্ত্রীর ও সংসদ সদস্যদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন করে ইন্টার্ন দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। ইন্টার্নরা সংসদ সদস্যদের গবেষণামূলক কাজ করবে, যা আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হবে।”

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের উন্নয়ন ও বাজেট বরাদ্দ

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আধুনিকায়ন ও বসার জায়গার সংকট নিরসনে বাজেটে বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ অফিসের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং কর্মীদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে।

আইন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা

আইন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত দুই যুগে ১৫০ কোটি টাকার বেশি খরচ করে আইন কমিশন ১৬৯টি আইনের সুপারিশ করলেও গৃহীত হয়েছে মাত্র আটটি। প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা জনগণের অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ইনপুট আসছে না।” তিনি আইন কমিশনের কার্যক্রমে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যাতে জনগণের অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।