রংপুরে পুলিশ হত্যা মামলায় আসামি পারভেজ রহমান পলাশের মৃত্যুদণ্ড
রংপুরে পুলিশ হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

রংপুরে পুলিশ হত্যা মামলায় আসামি পারভেজ রহমান পলাশের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

রংপুরে পুলিশের এএসআই পিয়ারুল ইসলাম হত্যা মামলায় আসামি পারভেজ রহমান পলাশকে (২৬) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মার্জিয়া খাতুন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত পলাশ রংপুর নগরীর বাহার কাছনা তেলীপাড়ার জাহিদুল ইসলামের ছেলে হিসেবে পরিচিত। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাশ আদালতে উপস্থিত ছিলেন, যা ঘটনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ঘটনার পটভূমি ও বিচারিক প্রক্রিয়া

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলালের বরাত দিয়ে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় পলাশ নামের এক মাদকসেবীকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। এই সময় পলাশ তার কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে এএসআই পিয়ারুল ইসলামের বুকে মারাত্মক আঘাত করে। গুরুতর আহত পিয়ারুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে এবং আসামি পারভেজ রহমান পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত সিদ্ধান্ত নেয়। বিচারক মার্জিয়া খাতুন আসামি পারভেজ রহমান পলাশের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। এছাড়া, আরও দুটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এই রায়ে পুলিশ হত্যা মামলায় কঠোর শাস্তির নজির স্থাপিত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলি আব্দুল হাদী বেলাল জানান, পুলিশ হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ন্যায় বিচার পাওয়ায় নিহত এএসআই পিয়ারুল ইসলামের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা করছেন যে এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন স্পষ্ট করে বলেন, এই রায়ে আসামিপক্ষ মোটেও সন্তুষ্ট নয় এবং তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন যে বিচারিক প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি রয়ে গেছে এবং তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এই মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা আইনি মহলে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

এই ঘটনা রংপুর অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন যে এই রায় অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।