রংপুরে এএসআই হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড, আদালত থেকে বের করা হচ্ছে পারভেজ
এএসআই হত্যায় মৃত্যুদণ্ড, আদালত থেকে বের হচ্ছে পারভেজ

রংপুরে এএসআই হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড, আদালত থেকে বের করা হচ্ছে পারভেজ

রংপুরে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পিয়ারুল ইসলাম হত্যা মামলায় এক যুবকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মার্জিয়া খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পারভেজ হোসেনকে আদালত থেকে বের করা হচ্ছে।

মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানার বাহারকাছনা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পারভেজ হোসেনের কাছ থেকে ১৫২টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাঁকে আটক করতে গেলে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এএসআই পিয়ারুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে পারভেজ তাঁর সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিয়ারুল ইসলামের পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।

এতে পিয়ারুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং আরেক পুলিশ সদস্যও আহত হন। ঘটনার পরদিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিয়ারুল ইসলামের মৃত্যু হয়। পিয়ারুল ইসলাম রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানায় কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজাহাট উপজেলায়। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত পারভেজ হোসেন (৩১) রংপুর নগরের বাহারকাছনা এলাকার বাসিন্দা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের রায় ও আইনজীবীদের বক্তব্য

আদালত সূত্র জানায়, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হারাগাছ থানায় হত্যা মামলা করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আবদুল হাদি বেলাল বলেন, "পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।" পাশাপাশি তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ রায়ে ন্যায়বিচার পাননি মন্তব্য করে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।"

মামলার গুরুত্ব ও সামাজিক প্রভাব

এই মামলাটি পুলিশ বাহিনীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি হামলার গুরুতর পরিণতি তুলে ধরেছে। আদালতের এই রায় আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমাজে মাদকবিরোধী অভিযান ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও এই ঘটনা আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

রংপুর বিভাগের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এই রায়ের প্রভাব নিয়ে স্থানীয়রা নজর রাখছেন। অনেকের মতে, এই সাজা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আসামিপক্ষের আপিলের ঘোষণা মামলাটির আইনি প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।