দেলোয়ার হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড আদেশ
দেলোয়ার হত্যা মামলায় মাসুদ চৌধুরীর রিমান্ড আদেশ

দেলোয়ার হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড আদেশ

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (১১ এপ্রিল) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসাইনের আদালত এই আদেশ জারি করেন।

রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষাপট

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এর আগেও একই মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত তথ্য গোপনের শঙ্কায় তদন্ত কর্মকর্তা আজ তাকে আদালতে তুলে ফের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।”

আদালতে দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাজতি আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হাজতি আসামি লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে (অব.) এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী রিমান্ডের ইতিহাস

এর আগে, আলোচিত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মানবপাচার মামলায় তিন দফায় ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে দুই মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এখন পর্যন্ত ২২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলো। গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ আবার দ্বিতীয় দফায় তার ছয় দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এই ধারাবাহিকতায় নতুন রিমান্ড আদেশটি কার্যকর হয়েছে।

দেলোয়ার হত্যা মামলার অভিযোগ

দেলোয়ার হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা চালানো হয়। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহতের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আদালতের এই রিমান্ড আদেশ তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।