ঠাকুরগাঁওয়ে পিআইও মারধর মামলায় গণ অধিকার পরিষদ নেতার গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গণ অধিকার পরিষদের নেতা মামুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে দিনাজপুর শহরের সুইহারি ড্রাইভারপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
ঘটনার পটভূমি ও নির্বাচনী ইতিহাস
মামুনুর রশিদ গত সংসদীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ (রানীশংকৈল ও পীরগঞ্জ উপজেলা) আসনে গণ অধিকার পরিষদ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে তিনি জামানত হারান। তিনি গণ অধিকার পরিষদের সহযোগী সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পিআইওকে মারধরের ঘটনার পর থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তারের দিকে পরিচালিত করে।
মারধরের ঘটনা ও মামলা দায়ের
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৭ এপ্রিল রাত ৯টার পর রানীশংকৈল উপজেলা পরিষদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন পিআইও নুরনবী সরকার। এ সময় মামুনুর রশিদ সহযোগীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। রাতে কার্যালয় খোলা নিয়ে পিআইওর সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ ও তাঁর সহযোগীরা পিআইওকে মারধর করেন। স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা খবর পেয়ে এসে পিআইওর পক্ষে অবস্থান নেন, যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ওই দিন রাতেই পিআইও নুরনবী সরকার বাদী হয়ে মামুনুর রশিদসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে রানীশংকৈল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রানীশংকৈল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও সদস্য রাকিব ফেরদৌস। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
পিআইওর অভিযোগ ও নিরাপত্তাহীনতা
পিআইও নুরনবী সরকার অভিযোগ করে বলেন, ‘মামুনুর রশিদ বিভিন্ন সময় আমার কাছে চাঁদা দাবি করতেন। রাজি না হওয়ায় তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। সেদিন রাতে দপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকার সময় মামুনুর রশিদ লোকজন নিয়ে অফিসে এসে আমার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। হামলাকারীরা অফিসের কাগজপত্র তছনছ করেন। এ ঘটনার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ তাঁর এই বক্তব্য ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও গ্রেপ্তার নিশ্চিতকরণ
মামুনুর রশিদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে রানীশংকৈল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রহমত উল্লাহ (রনি) জানান, ‘উপজেলা পরিষদ ভবনের পিআইও কার্যালয়ে প্রবেশ করে পিআইওকে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার পর প্রধান আসামি মামুনুর রশিদ গা ঢাকা দেন। গতকাল দিনাজপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলছে।’ পুলিশের এই পদক্ষেপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের দৃঢ়তা প্রদর্শন করছে।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



