উত্তরায় স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় চালকের দুই বছরের কারাদণ্ড
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত রাজধানীর উত্তরায় সাত বছর আগে মাইক্রোবাস চাপায় স্কুলছাত্রী ফাইজা তাহসিনা সূচি (১০) নিহত হওয়ার ঘটনায় চালক মো. ফারুক মোল্লাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি এই রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ড ও জরিমানার বিস্তারিত
আদালত চালক মো. ফারুক মোল্লাকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়াও, তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ফাইজা তাহসিনা সূচিকে একটি মাইক্রোবাস ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, ধাক্কা দেওয়ার পর চালক গাড়ি থামিয়ে পুনরায় ফাইজার ওপর দিয়ে চালিয়ে দেন।
স্থানীয় লোকজন গাড়িটি আটক করে ফাইজাকে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরের দিন তুরাগ থানায় মামলা করেন ফাইজার বাবা ফাইজুল ইসলাম।
ফাইজার বাবার প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ
রায়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে ফাইজার বাবা ফাইজুল ইসলাম বলেন, 'দীর্ঘ সাত বছর পর রায় পেলাম। সড়ক পরিবহন আইনে সাজার এই পরিমাণ অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। আইনটি যুগোপযোগী নয় এবং অত্যন্ত দুর্বল বলে মনে করি।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের দুর্ঘটনায় কঠোর শাস্তি প্রয়োজন, যা বর্তমান আইনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা ও আইনি প্রক্রিয়া
এই ঘটনা বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন যে, সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন এবং কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এমন ট্র্যাজেডি রোধ করা সম্ভব।
- দুর্ঘটনার তারিখ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
- নিহতের নাম: ফাইজা তাহসিনা সূচি (১০ বছর)
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- মামলা দায়ের: তুরাগ থানা
- রায়ের তারিখ: আজকের দিন
এই রায় সড়ক নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও তা পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।



