যশোরে আদালত বর্জন: আইনজীবীরা আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে এবং আইনমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।
আদালত বর্জনের কারণ ও অভিযোগ
অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু বলেন, আইরিন পারভীন আইনজীবীদের বাদ দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন এবং বাড়তি পুলিশ ব্যবহার করছেন। তিনি আইনজীবীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন, যা সম্পূর্ণ অনুচিত। সাবু আরও অভিযোগ করেন যে, আইরিন পারভীন আইন-কানুন যথাযথভাবে জানেন না এবং জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অযোগ্য।
এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আগে বৈঠক করা হয়েছিল, যেখানে সমঝোতা হলেও পরে আইরিন পারভীনের আচরণ আরও খারাপ হয়েছে। গত বুধবার জরুরি সভায় আইনজীবীরা তার দুটি আদালত ও যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
ন্যায়বিচার বঞ্চিত ও অন্যান্য সমস্যা
আইনজীবী ছাড়াই বিচারকার্য চলায় সেবাপ্রত্যাশীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন সাবু। তিনি বলেন, অন্য বিচারক দিলেই তারা আদালতে ফিরে যাবেন, কিন্তু যশোরের বিচার বিভাগ এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
এছাড়া, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদও বারের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই এজলাস শুরুর সময় পরিবর্তন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে এবং আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হবে।
পটভূমি ও অতীত ঘটনা
যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম গত বছর বদলি হন, এবং পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী যোগদান করেন। তবে তিনি চলতি বছরের শুরুতে বদলি হলে পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরপর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের মাধ্যমে কার্যক্রম চলছিল, যা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ এমএম মোর্শেদ ঢাকায় বদলি হওয়ার পর আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত আদালত বর্জনে রূপ নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র আইনজীবী দেবাশীষ দাস, সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর, সাবেক সভাপতি এম. ইদ্রিস আলীসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তারা আইনমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।



