মোহাম্মদপুরে ৯ হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
মোহাম্মদপুরে ৯ হত্যা: নানক-তাপসসহ ২৮ জনের অভিযোগ গঠন

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জুলাই আন্দোলনের সময় ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আদেশের বিবরণ

রোববার (১০ মে) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

প্রসিকিউশন পক্ষে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। এছাড়া, ভিডিও ফুটেজে অন্যান্য আসামিদের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসামিদের অবস্থান

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোট ২৮ জন আসামি। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন চারজন: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। রোববার সকালে তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।

আইনজীবীদের বক্তব্য

গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা। তারা আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দাবি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ যুক্তি দেন যে, ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার প্রেক্ষাপট

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নৃশংসতা চালায়। আসামিদের উসকানি ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত এবং অনেকে আহত হন।