জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় মো. সাগর নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৬ মে) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৭ এর বিচারক তাওহীদা আক্তারের আদালত এই আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামি একজন সাবেক সংসদ সদস্য, নারী এবং বাংলা ফোক সংগীত জগতের প্রথিতযশা শিল্পী। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। সারা দেশে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দমনে অপরাপর আসামিদের সঙ্গে অর্থ যোগানদাতা ও পরিকল্পনার কথিত কার্য সম্পন্ন করেন এজাহারে উল্লেখ থাকলেও এতে কোনও তথ্য-উপাত্ত নেই।
তিনি আরও বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার আইনি অধিকার সংরক্ষণ করেন। এই মামলায় অভিযোগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য। শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন গত ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর থানাধীন ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালান পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এসময় ঘটনাস্থলেই মারা যান ভিকটিম মো. সাগর। এ ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর নিহতের মা বিউটি আক্তার মিরপুর থানায় শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করে ২৪২ জনের নামে হত্যা মামলায় দায়ের করেন। মমতাজ বেগম এই মামলায় ৪৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়। ২০১৮ সালেও নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া মমতাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে দলের নেতা এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান।
২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছে।



