পুঠিয়া রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী ভবন ভাঙা: প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের জিডি
পুঠিয়া রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী ভবন ভাঙা: প্রত্নতত্ত্বের জিডি

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের একটি ঐতিহ্যবাহী ভবন ভাঙার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। মঙ্গলবার (৫ মে) পুঠিয়া থানায় এ জিডি করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের রাজবাড়ির কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, পুঠিয়া-আড়ানী সড়কের পাশে রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের সামনের অংশে অবস্থিত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, একসময় এই ভবনে রাজবাড়ির দারোয়ান নিতাই শিং বসবাস করতেন। বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন পুঠিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম সাবু, যিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা কমিটির সদস্য।

অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন ধরে তিনি ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এর আগে দুই দফা ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। মনিরুল ইসলাম দাবি করছেন, এটি তার কেনা সম্পত্তি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, ভবনটি পুঠিয়া রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য রয়েছে। ধারণা করা হয়, ১৮২৩ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল এবং এটি রাজবাড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমানের করা জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে ভবনটির উপরের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে। গত ১৪ এপ্রিল প্রথম দফায় ভাঙার কাজে বাধা দেওয়া হয়। পরে ৩ মে আবারও ভাঙার চেষ্টা করলে পুনরায় তা প্রতিহত করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভবনটি ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় জিডিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘জিডিটি আদালতে পাঠিয়ে তদন্তের অনুমতি চাওয়া হবে। অনুমতি পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, মূল রাজবাড়ি থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত এই ভবনের পাশেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বড় শিব মন্দির ও দোল মন্দির। সম্প্রতি ভবনটি থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে একটি প্রাচীন আসবাবপত্র সরানোর বিষয়টি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেখতে চেয়ারের মতো হলেও এতে আয়না সংযুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি রাজপরিবারের ব্যবহৃত কোনও আসবাবপত্র হতে পারে। তবে মনিরুল ইসলাম এ দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, আসবাবটি পুরনো হলেও রাজপরিবারের নয়।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি যে ভবনটি ভাঙছেন তা আগে মারোয়ারি সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন ছিল। তার দাবি, পাকিস্তান আমলে তার দাদা ইয়াকুব আলী স্বর্ণকার বাড়িসহ প্রায় ৫ শতাংশ জমি কেনেন। এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ভাঙার কাজে বাধা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে সরকারকে সম্পত্তিটি অধিগ্রহণ করতে হবে।