প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিলেন সাবেক পিপি জাহাঙ্গীর তুহিন
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় সাবেক পিপি জাহাঙ্গীর

রংপুরে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন। সোমবার (০৪ মে) বিকালে দুই ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে নগরীর কেরানিপাড়া এলাকার বাড়িতে বাবার জানাজায় অংশ নেন। জানাজা ও দাফন হওয়ার পর সন্ধ্যায় তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়।

গ্রেফতার ও কারাগার

২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রংপুর নগরের আদালত এলাকার কেরামতিয়া মসজিদের সামনে থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছিল কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন। তিনি রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য এবং রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর সাবেক সরকারি কৌঁসুলি।

প্যারোলে মুক্তি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে পুলিশের কঠোর পাহারায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিজের পৈতৃক বাড়ি নগরীর কেরানিপাড়ার বাসভবনে আনা হয়। এ সময় বাবা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ফজলুর রহমানের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকেন। পরে জানাজায় অংশ নেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বজনরা জানান, সকালে নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান ফজলুর রহমান। এরপর জেলা প্রশাসনের কাছে জাহাঙ্গীর হোসেনের প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিক্রমে বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার জন্য তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। আসরের নামাজের পর কেরানিপাড়ার নাসিরাবাদ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নেন তিনি। জানাজা ও দাফন শেষে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিবসহ অনেকেই জানাজায় অংশ নেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া

মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর কোতোয়ালি ও তাজহাট থানায় এবং ২০২৫ সালের ৯ মে কোতোয়ালি থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিনটি মামলা করা হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তিনি রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাহাঙ্গীরকে পিপি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।