বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড
বিপ্লব শেখ হত্যায় মাসুদ উদ্দিনের তিন দিনের রিমান্ড

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় বিপ্লব শেখ নামে এক যুবক নিহতের মামলায় এবার সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে তার তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। গ্রেফতার দেখানোর শুনানিতে সোমবার (৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'একই দিনে একই সময়ে কীভাবে দুই হত্যায় নেতৃত্ব দেয়।'

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিনকে গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এরপর গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ৬ দিন এবং ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

এরপর ৭ এপ্রিল জুলাই আন্দোলনকালে মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে চার দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। ১১ এপ্রিল আরও চার দিনের রিমান্ডের আদেশ হয়। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাসুদ উদ্দিনকে ১২ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ২৭ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করে তিন কারণ দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। ৩০ এপ্রিল তার আরও চার দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন। এরপর তাকে বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের এসআই হাবিব উল্যাহ্। প্রথমে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি করে বলেন, 'তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। এরচেয়ে বড় পরিচয় তিনি এক- এগারোর একজন কুশীলব। বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এজন্য তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রার্থণা করছি।'

এসময় বিচারক মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর কাছে জানতে চান, 'আপনি এমপি ছিলেন?' মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'হ্যাঁ'। বিচারক বলেন, 'নির্বাচিত?' 'অবশ্যই', বলে উত্তর দেন মাসুদ উদ্দিন। কোন আসন থেকে নির্বাচিত, বিচারকের প্রশ্নের জবাবে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'ফেনী-৩ আসন থেকে।' কত সালের নির্বাচনে জানতে চাইলে মাসুদ উদ্দিন বলেন, '২০১৮ সালের নির্বাচনে।'

নিজে কিছু বলতে চান কিনা, বিচারক জানতে চাইলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'একই দিনের একই সময় আরেক মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে ছিলাম। একদিনে একই সময়ে কীভাবে দুই হত্যার নেতৃত্বে ছিলাম।' তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ বলেন, 'ঘটনা ভিন্ন। একেকজন একেকভাবে হত্যায় জড়িত।'

এফআইআরে নাম ছিল কিনা? মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জানতে চাইলে বিচারক জানান, কোনও মামলার এফআইআরে নাম ছিল না। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়। আদেশ শুনে বিচারককে ধন্যবাদ দেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এরপর রিমান্ড বিষয়ে শুনানি করতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নেওয়া হয় আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে।

হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, 'এ আসামি এক- এগারোর একজন খলনায়ক। এক- এগারোর সময় প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। বিএনপির প্রধান দুই চরিত্র খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দল থেকে সরে যেতে চাপ দেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন। ওই সময় একটা পাতানো নির্বাচন করে। হাসিনাকে ক্ষমতায় আনেন।' তিনি বলেন, 'মামলাটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা। তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাকে রিমান্ডে নিলে মামলার তথ্য উদঘাটিত হবে।'

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী উম্মে হাবিবা রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করেন। তিনি বলেন, 'তিনি একজন সাবেক সংসদ সদস্য। অন্যান্য মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৭০ ঊর্ধ্ব বয়স্ক একজন মানুষ। এজাহার, এফআইআরে তার নাম নেই। রিমান্ড বাতিল করে তার জামিন প্রার্থণা করছি।'

এসময় আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তবে কথা বলার অনুমতি পাননি তিনি। পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

দেলোয়ার হত্যা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০-৭০০ নেতাকর্মী। এসময় আসামির নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ৬ জুলাই দেলোয়ারের স্ত্রী মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন।