নরসিংদীর রায়পুরায় আলোচিত শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অবশেষে ধর্ষক জুনায়েদ আহমদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের পরপরই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৩ লাখ টাকার চুক্তিতে মাঠে নামে স্থানীয় বিএনপির তিন নেতা বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ
গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার রাত ২টার দিকে রায়পুরার হাসিমপুর-কলাবাড়িয়ার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসার ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ধর্ষণ করেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক জুনায়েদ আহমদ। শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে সকালে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে গিয়ে পুনরায় অসুস্থ হলে তার মা-বাবা ও খালাকে জানানো হয়। পরে তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা
ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ৩ লাখ টাকার চুক্তি করেন। তারা পরিবারকে মামলা না করার নির্দেশ দিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিচারের আশ্বাস দেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় সালিশের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে গ্রামের শত শত মানুষ জড়ো হন এবং ধর্ষকের বিচারের দাবিতে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। জনতা মাদ্রাসার একটি সাঁটার ভাঙচুর করে ধর্ষক জুনায়েদকে আটক করেন। সালিশ-বৈঠক ভেস্তে যায় এবং পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পুলিশের আগেই পালিয়ে যান ধর্ষক
পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই কৌশলে ধর্ষক জুনায়েদকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন বিএনপি নেতারা। পরে রোববার দুপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি জানার পর ফুঁসে ওঠেন নির্যাতিতার পরিবার।
নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য
নির্যাতিতার মা সাংবাদিকদের বলেন, 'মাদ্রাসা শিক্ষক জুনায়েদ আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে; কিন্তু বিএনপি নেতারা আমাদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে মামলা করতে দেয়নি। এমনকি সাংবাদিকের সঙ্গেও কথা বলতে নিষেধ করে। তারা আমার মেয়ের ধর্ষণের ঘটনা উলটে দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ লিখে দেয়। তারা ধর্ষককে বাঁচাতে চেয়েছে। আমি সেটা মানব না। আমার কোমলমতি শিশু মেয়ের শরীর এখনো ক্ষত বহমান। আমি ধর্ষকের ফাঁসি চাই।'
বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন
৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রোববার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা ও রায়পুরা পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস।
পুলিশের বক্তব্য
রায়পুরা থানার ওসি মুজিবর রহমান জানান, ধর্ষক জুনায়েদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে তিনি বলেন, 'ভিকটিম বাইরে থেকে অভিযোগ লিখে নিয়ে এসেছে। সেভাবেই ব্যবস্থা নিয়েছি। পরে শিশুটির মা ধর্ষণের বিষয়ে বলেছেন। আমরা তাকে ডাক্তারের কাছে পাঠিয়েছি। ডাক্তার ধর্ষণের আলামত পেলে ধর্ষণ মামলা হিসেবেই গণ্য হবে।'
গ্রেফতারকৃত শিক্ষকের পরিচয়
গ্রেফতারকৃত ধর্ষক জুনায়েদ আহমদ রায়পুরার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি উপজেলার চান্দেরকান্দি এলাকার মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম। একই সঙ্গে ধর্ষক জুনায়েদ জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বাবুল ভূঁইয়ার ভাইরা।



