টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কাঁচা-পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। উব্দাখালী, ভুগাই, মহাদেওসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি হাওর ও বিলে পানি ঢুকেছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে পানি ঢুকে সোনাডুবি, গোরাডোবা, আঙ্গাজুরা ও মহিষাশুরা হাওর এবং মেদী ও তেলেঙ্গা বিলের প্রায় এক হাজার হেক্টর খেতের কাঁচা-পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। অধিকাংশ জমিতে হাঁটুপানি। এমন পরিস্থিতিতে বন্যার আশঙ্কায় আধপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
ধান কাটা এখনও অর্ধেক
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কলমাকান্দায় ২১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে আছে ৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমি। এসব এলাকায় আজ দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৪৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে একাধিক কৃষকের দাবি, বাস্তবে হাওরের ২৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধান এখনও মাঠে।
যন্ত্র ও জ্বালানি সংকট
ধান কাটতে মাঠে ৩৫টি কম্বাইন হারভেস্টার আছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেতে পানি থাকায় যন্ত্রটি দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের সংকটে সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিটি হারভেস্টারের জন্য দৈনিক ১২০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। সদর উপজেলার হারভেস্টারের মালিক আজিজুল হক বলেন, ‘আমার মেশিনটিতে দিনে ১৩৫ লিটার তেল লাগে। কিন্তু পাম্প থেকে দেওয়া হয় ৮০ লিটার। এতে অর্ধেক দিন কাজ চলে। কখনও কখনও তেলই পাওয়া যায় না, তখন মেশিন বন্ধ রাখতে হয়।’
শ্রমিক সংকটে কৃষকের দুর্ভোগ
তিন একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন বিশরপাশা গ্রামের কৃষক আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ‘ধান পেকেছে, কিন্তু শ্রমিক পাচ্ছি না। জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টারও যেতে পারছে না। শ্রমিক দিয়ে আট শতক জমির ধান কাটতে খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। অথচ ধানের দাম মাত্র ৭০০ টাকা মণ।’
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন এবং হারভেস্টার ব্যবহারে সমন্বয় করা হচ্ছে। আগামীকাল থেকে জ্বালানি সংকট কিছুটা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকট আছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘আগাম বন্যার সম্ভাবনা বিবেচনায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে সচেতন করা হচ্ছে। কৃষকরা যাতে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারেন।’



