রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। তিনি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ শাহ নেওয়াজ হলের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশের বটতলা এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা মুখোশধারী দুজন দুর্বৃত্ত ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়ে থাকেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. জুয়েল জানান, শাহ নেওয়াজ হলের সামনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। চিকিৎসক জানান, তার শরীরে পাঁচটি গুলির চিহ্ন ছিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। প্রথমে নিহতের পরিচয় জানা না গেলেও পরে পুলিশ তাকে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হিসেবে শনাক্ত করে।
নিহতের পরিচয় ও পটভূমি
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নিহত ব্যক্তি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ টিটন। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ জন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ তালিকায় টিটনের নাম ছিল। তার ভগ্নিপতি সানজিদুল ইসলাম ইমনও একই তালিকাভুক্ত আরেক সন্ত্রাসী। তারা দুজনই মোহাম্মদপুর এলাকার হারিছ-জোসেফ গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং টিটনের তৎপরতা ছিল ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায়।
পুলিশের বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, নিহত টিটনের সঙ্গে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ক্যাপ্টেন ইমন’-এর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। পারিবারিকভাবেও তাদের সম্পর্ক জটিল—টিটন ছিলেন ইমনের সমন্ধি (ছোট স্ত্রী নীলার বড় ভাই)। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর টিটন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুনরায় সক্রিয় হন, যা সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টিটনসহ তালিকাভুক্ত কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর টিটন আর আদালতে হাজিরা দেননি।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নিউ মার্কেট থানার ওসি মো. আইয়ুব বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক রক্ত দেখতে পেয়েছি। দুর্বৃত্তরা গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



