মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সদর দফতরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক এবং অসামরিক ও প্রতিরক্ষা বিভাগের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিথি ও পদক বিতরণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক সিকিউরিটি ডিভিশনের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী। নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোস্ট গার্ড সদস্যদের বীরত্ব ও অসামান্য সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৪টি পদক প্রদান করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পদকগুলোর মধ্যে রয়েছে চারটি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মেডেল, চারটি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) মেডেল, তিনটি প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড মেডেল এবং তিনটি প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) মেডেল।
আধুনিকায়নের পরিকল্পনা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনটি নজরদারি ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নতুন জাহাজ সংগ্রহের কাজ চলছে। তিনি জনবল ১০ হাজারে উন্নীতকরণ এবং সামুদ্রিক হেলিকপ্টার, উন্নত ড্রোন ও অতিরিক্ত জাহাজের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণ অগ্রসর হচ্ছে এবং উপকূলীয় অপরাধ প্রতিরোধে হাইস্পিড বুলেটপ্রুফ বোট চালু করা হচ্ছে।
ইতিহাস ও ভূমিকা
১৯৯৪ সালে আইনি কাঠামোর অধীনে গঠিত এবং ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তৎপর থেকে সমুদ্র নিরাপত্তা, চোরাচালান বিরোধী অভিযান, মৎস্য সুরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উপকূলীয় ও নদী এলাকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।



