কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় চার ঘাতক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে ৬নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির খাস কামরায় চার আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
গ্রেফতার ও জবানবন্দি
পুলিশ জানায়, কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব। সোমবার বিকালে তাদের সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারকের সামনে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন গ্রেফতার সোহাগ, এমরান, রাহাত ও সুজন। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিটু কুমার নাথ অপর আসামি ইসমাইল হোসেন জনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাতে তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে, চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার হোটেল আইরিশের পাশের ফুটপাত থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেখান থেকেই গত ১১ এপ্রিল ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
পরিবারের বক্তব্য
নিহতের পরিবার জানায়, বুলেট বৈরাগী প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার জন্য শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে ঢাকাগামী বাসে ওঠেন। তার কুমিল্লা বাইপাসে নেমে যাওয়ার কথা। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ফোন করলে তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন বলে জানান। তবে তার মা নীলিমা বৈরাগী জানান, শেষবার কথা বলার সময় তার ছেলের কণ্ঠ অপরিচিত মনে হয়েছিল। কিন্তু কথা বলার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল বন্ধ পান। খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো হদিস না পেয়ে শনিবার সকালে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। এর পরপরই সড়কের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।
নিহতের পরিচিতি
নিহত বুলেট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া বাবুপাড়া গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগদান করেন। চাকরির সুবাদে কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ সংলগ্ন পানপট্টি এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তার বাবা, মা ও স্ত্রী ছাড়াও এক বছর বয়সি এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
মামলার বাদীর প্রতিক্রিয়া
মামলার বাদী নীলিমা বৈরাগী বলেন, 'শুনেছি চার আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।'
তদন্তের অগ্রগতি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিটু কুমার নাথ বলেন, 'চার আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। মামলাটি মোটামুটি ডিটেক্টের পর্যায়ে রয়েছে। আমরা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।'



