বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্টের জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় হ্রাস করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে আদালতের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে প্রথম দিনেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে।
অফিস সময়সূচি ও জ্বালানি ব্যবহারে পরিবর্তন
সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের কার্যকাল এখন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আপিল বিভাগ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এই সময়সূচি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এছাড়াও, সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহারও একই হারে হ্রাস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে কার্যক্রম ত্বরান্বিত
তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ এবং সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিস নির্দেশনা অনুসরণ করে, আদালত ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুনানি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে, চেম্বার জজ আদালতসহ, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই ভার্চুয়াল শুনানির জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকা এবং মিটিং আইডি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়, যা আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট各方ের জন্য প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করে।
প্রথম দিনের সাফল্য: ৭০৭টি মামলা শুনানি
বুধবার (২২ এপ্রিল) ভার্চুয়াল শুনানির প্রথম দিনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই দিনে আপিল বিভাগে ৯৫টি মামলা শুনানি ও ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একইসাথে, হাইকোর্ট বিভাগে ৬১২টি মামলা শুনানি ও ১৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
এভাবে উভয় বিভাগে মিলিয়ে মোট ৭০৭টি মামলা শুনানি ও ১৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে, যা আদালতের কার্যক্রমের গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা ও প্রেক্ষাপট
এই পদক্ষেপগুলির পেছনে সরকারের জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতির দিকনির্দেশনা কাজ করছে। গত ৫ মার্চ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়, যা সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এই নির্দেশনাগুলির বাস্তবায়নের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংক্ষেপে, বৈশ্বিক সংকটের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ও ভার্চুয়াল শুনানি চালু করা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। প্রথম দিনের সাফল্য এই পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণ করে, যা ভবিষ্যতে আরও উন্নতির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।



