নওগাঁয় জমি বিরোধে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: তিনজন গ্রেপ্তার
নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় জমি ভাগাভাগির বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও গ্রেপ্তারকৃতরা
গত সোমবার দিবাগত রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতরা হলেন একই পরিবারের সদস্য: হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের ছেলে পারভেজ রহমান (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৩)।
পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে সবুজ রানা ও শাহিন মন্ডল এবং ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম। হত্যাকাণ্ডের দিন মঙ্গলবার সবুজ রানাকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শহিদুল ইসলাম ও শাহিন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যার পরিকল্পনা ও বীভৎস ঘটনার ধারাবাহিকতা
পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামের বর্ণনায় উঠে এসেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হাবিবুরের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে শাহিন এবং আরেক বোন হালিমা খাতুনের ছেলে সবুজ রানা এই হত্যার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার ক্রমবিকাশ:
- সোমবার বিকেলে হাবিবুর রহমান তার ভাগ্নে সবুজ রানাকে নিয়ে ছাতড়া বাজারে গরু কিনতে যান, কিন্তু ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গিয়েও গরু না কিনেই ফিরে আসেন।
- বাজার থেকে ফিরে গ্রামের একটি মাঠে সবুজ রানা, শহিদুল ইসলাম, শাহিন মন্ডলসহ মোট ছয়জন হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে।
- সোমবার রাত ৮টার দিকে হাবিবুরের বাড়িতে গিয়ে তারা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খায়, এবং এক ভাগ্নে লুকিয়ে থাকে।
- পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শাহিন মূল দরজা খুলে দিলে সবুজ, শহিদুল ও অন্যান্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে।
হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা: তারা প্রথমে হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিনের ঘর বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে দেয়। এরপর হাবিবুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। যখন তার স্ত্রী পপি সুলতানা বাথরুমে যাওয়ার জন্য বের হন, তখন তাকে হাঁসুয়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে পরে গলাকেটে হত্যা করা হয়। শেষে তাদের দুই শিশু সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকেও গলা কেটে হত্যা করে পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে।
তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ
মঙ্গলবার সকালে ঘটনা জানাজানি হলে সবুজ রানা, শহিদুল ইসলাম ও শাহিন মন্ডল হাবিবুরের বাড়িতে আসেন, কিন্তু পুলিশের তদন্তে ধরা পড়েন। পুলিশ সবুজ রানার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত হাঁসুয়া একটি খড়ের পালা থেকে এবং আরও একটি ছুরি গ্রামের পুকুর থেকে উদ্ধার করে।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, নিহত পপি সুলতানার বাবা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন ছাড়াও বাকি তিনজন পলাতক রয়েছেন এবং তাদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত আছে।
এই ঘটনা সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা হবে।



